মো: সাজ্জাদ হোসেন:
হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে ব্যাটারি নিলামের নামে প্রতারণার অভিযোগে খুলনা, যশোর এবং মাগুরা জেলায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে ৩ জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, পুলিশের লোগোযুক্ত ফর্ম, ভিজিটিং কার্ড ও একটি ওয়াকিটকি সেটসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী মাগুরার মো. শুকুর আলী (৩৮) পেশায় একজন পিকআপ ড্রাইভার এবং তার সাতটি অটোরিকশা রয়েছে, যা তিনি ভাড়ায় চালান। গত ৮ জানুয়ারি তার রিকশার ড্রাইভার মো. আরিফের মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়, যিনি নিজেকে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট তরিকুল ইসলাম হিসেবে পরিচয় দেন। নিলামে পুরাতন ব্যাটারি কম দামে বিক্রি করার কথা বলে প্রথমে নগদ অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা অগ্রিম এবং পরদিন সোনাডাঙ্গা আল ফারুক মোড়ে এসে আরও ৮২,০০০ টাকা দিতে বলেন।
শুকুর আলী নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা প্রদান করলেও পরে জানতে পারেন—“সার্জেন্ট” পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা আরও টাকা দাবি করছে এবং ব্যাটারি সরবরাহ না করলে আগের দেওয়া টাকাও ফিরিয়ে দেবে না। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন পুরো ঘটনাটি প্রতারণা ও আত্মসাৎ। বিষয়টি তিনি পিবিআই খুলনা জেলা অফিসে লিখিত অভিযোগ আকারে জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা–এর নেতৃত্বে গত ১২ জানুয়ারি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, এসআই (নিঃ) মো. সোহানুর রহমান, এসআই (নিঃ) খোন্দকার নাঈম-উল-ইসলাম এবং এসআই (নিঃ) মো. মাসুদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল মাগুরা সদর থানাধীন ঢাকা রোডের একতা কাঁচা বাজার সংলগ্ন হোটেল রয়েল থেকে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
এসএম শাহিন (৫০), কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ
মো. নাজমুল হাসান (৩২), মোহাম্মদপুর, মাগুরা,ওবায়দুল বিশ্বাস (৩৪), মোহাম্মদপুর, মাগুরা, তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ভিজিটিং কার্ড, ওয়াকিটকি সেট এবং পুলিশের লোগোযুক্ত ফর্ম উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শুকুর আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা নং-১৩, তাং ১৩/০১/২০২৬, ধারা ১৭০/১৭১/৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পিবিআই খুলনা জেলার এসআই (নিঃ) খোন্দকার নাঈম-উল-ইসলামকে অর্পণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, আর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















