Wednesday , 12 February 2025 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থ ও কৃষি
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইসলাম ও জীবন
  8. ক্যাম্পাস
  9. খেলা
  10. গল্প-সাহিত্য
  11. চাকরী
  12. জাতীয়
  13. দরকারি
  14. পাঠকের মতামত
  15. প্রবাসের খবর

টাঙ্গাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা: বংশাই নদীতে গঙ্গাস্নানে পুণ্যার্থীদের ভিড়

প্রতিবেদক
Btech News
February 12, 2025 6:42 pm

শুভ্র মজুমদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈয়দামপুর গ্রামে বংশাই নদীর তীরে ১২ ফেব্রুয়ারী(বুধবার)দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলার ইতিহাস প্রায় একশ বছরের পুরনো। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এখানে গঙ্গাস্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং মনের বাসনা পূরণ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ মেলায় সমবেত হন।

স্থানীয়দের মতে, ব্রিটিশ শাসনামলে ‘বক্ত সাধু’ নামে পরিচিত মাধব ঠাকুরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মেলার সূচনা। সেই সময় থেকে নিয়মিতভাবে গঙ্গাস্নান ও পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মেলাটি আয়োজিত হয়ে আসছে। ধীরে ধীরে এটি ‘ডুবের মেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পুরোহিত রবিন্দ্র চক্রবর্তী জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এই গঙ্গাস্নান হয়ে আসছে। এটি মূলত মাঘী পূর্ণিমার গঙ্গাস্নান হিসেবে পরিচিত। এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১৫-২০ জন পুরোহিত এসেছেন পূজা-অর্চনা পরিচালনার জন্য।

ভোর থেকেই মেলায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। পুণ্যার্থীরা বংশাই নদীতে গঙ্গাস্নান করে এবং পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করেন। নারী, পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীরা দলে দলে মেলার দিকে ছুটে আসেন। স্নান শেষে অনেকেই নদীর তীরে প্রার্থনা ও মানত করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে আসা শান্তি রায় বলেন, “আমি প্রায় ১০-১২ বছর ধরে এই মেলায় আসছি। এখানে এসে স্নান করলে মন প্রশান্ত হয়। আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি অত্যন্ত পূণ্য লাভের স্থান। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এই গঙ্গাস্নান আমাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।

শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এই মেলাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। মিষ্টি বিক্রেতা ফজল আলী, যিনি ৩২ বছর ধরে এই মেলায় আসছেন, বলেন, “এখানে মিষ্টির বেশ ভালো চাহিদা থাকে। প্রতি বছর ১০-১২ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়। এ ছাড়া খেলনা, পোশাক, খাবারসহ নানা ধরনের দোকান বসে, যা মেলার আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

মেলা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন বলেন, “এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে চলে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতি বছর হাজারো মানুষ এখানে আসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, যাতে সবাই নির্ভয়ে উৎসবে অংশ নিতে পারেন।

শতবর্ষী এই ডুবের মেলা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুগ যুগ ধরে টাঙ্গাইলের মানুষ এই মেলাকে সংরক্ষণ করে আসছে, যা বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

 

শেয়ার করুন

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত

মাগুরা সদর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ২২ জন “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি” ডিলার নিয়োগ-২০২৫ উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত

মাগুরায় বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত

মাগুরায় জামায়াতের নির্বাচনী দ্বায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শতবর্ষী ঐতিহ্যের সাক্ষী: কালিহাতীর বাগুটিয়া হাট

আলোচিত মাগুরার আছিয়া খাতুনের বাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নেতৃবৃন্দ

মাগুরায় নানা আয়োজনে জন্মাষ্টমী পালিত

মাগুরায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ শ্রীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়কসহ আটক – ২

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুয়েত প্রবাসি ও মিরসরাই সমিতির সাবেক সভাপতি মো: রহিম উদ্দিন ভুঁইয়া

মাগুরায় নিহত কৃষকদল নেতার পরিবারে অর্থ সহায়তা প্রদান

কালিহাতীতে গ্রামীন সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক আহত, উত্তেজনা বিরাজমান