মোঃ সাইফুল্লাহ:
মাগুরা মহম্মদপুরে পাল্লা গ্রামে নানা বাড়তেই বসবাস করে হতদরিদ্র পরিবারের শিশু সাইমুন! তাকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি,বিত্তবানদের নিকট আবেদন তাঁরা যেন এগিয়ে আসে সাহায্যের জন্য। জন্মের পর থেকে তাকে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে আনা নেওয়া করতে হয়। অস্বাভাবিক বড় আকৃতির মাথা ঠিকমত খাবার খেতে পারে না। হাত-পা সব সময় কাঁপতে থাকে অন্যান্য শিশুদের মত স্বাভাবিক আচরণ নেই তার। শিশুটিকে নিয়ে তার মা আশ্রয় নিয়েছে বাবার বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামে। অসহায় মা আফরোজা খাতুন ৪ বছরের রোগাগ্রস্থ শিশু সাহাদি ইসলাম সাইমুনকে কোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জন্মের পর থেকে তাকে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে আনা নেওয়া করতে হয় প্রতিনিয়ত।
শিশুর জন্য তার বাবা-মায়ের সংসার ভাঙনের পথে।
শিশুর মা আফরোজা খাতুন জানান, শিশুটির চিকিৎসার খরচ নিয়ে সংসারে ভ্যানচালক হতদরিদ্র স্বামীর সঙ্গে নানা ধরনের ঝামেলা লেগেই থাকে। আমার সংসারটিই ভাঙতে বসেছে। সাইমুনের মাথা অস্বাভাবিক বড় হওয়ায় নিজে চলাফেরা করতে পারছে না, এছাড়া ঠিকমত কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছে না। অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না সাইমুন। সামান্য বাবা-মা ডাক দিতে পারলেও সব কিছু মনে রাখতে পারে না শিশুটি। টাকার অভাবে সন্তানটির ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারছি না।
শিশুটির নানা আব্দুল হাই মিয়া জানান, ১৫ বছর আগে তার মেয়ে আফরোজাকে শৈলকুপা ভাটবাড়িয়া এলাকার ভ্যান চালক সাগর মন্ডলের সঙ্গে বিয়ে দি। আফরোজার ২য় সন্তান মোঃ সাহাদি ইসলাম সাইমুন। জন্মের সময় শিশুটির মাথার আকৃতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও আস্তে আস্তে মাথাটি অস্বাভিবকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে তাকে বিভিন্ন চিকিৎসকের নিকট নেওয়া হলে তাতে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।মাগুরা, ঝিনাইদহ,যশোরে ডাক্তার দেখানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। চিকিৎসক বলছেন- ছেলেটির ব্রেইনে পানি জমছে দ্রুত অপারেশন করার দরকার। অপারেশন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন।
হতদরিদ্র মা তার শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সমাজের বিক্তবান লোকদের নিকট আর্থিক সহায়তার জন্য আকুতি করছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আবু আহসান বলেন,শিশু সাইমুনকে উন্নত চিকিৎসা ও দ্রুত অপারেশন না করালে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।


















